ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ , ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হ'ত্যা মা'ম'লা, গ্রে'প্তা'র মোজাফফরকে নিয়ে হবে ত'দ'ন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২৬ ২০:৫৭:৫১
পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হ'ত্যা মা'ম'লা, গ্রে'প্তা'র মোজাফফরকে নিয়ে হবে ত'দ'ন্ত পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার মোজাফফরকে নিয়ে হবে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা দীর্ঘ ৪৫ বছর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ২০১১ সালে চট্টগ্রামের একটি আদালত মামলাটির সমাপ্তি ঘোষণা করলেও গত জুলাইয়ে এ মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক অভিযুক্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ফলে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশীলবদের খুঁজতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শালের জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এর আগের দিন ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে যান তিনি। সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসন করা।

 

চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিন জিয়াউর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেন। গভীর রাতে তিনি ঘুমাতে যান। কয়েক ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর একটি দল সার্কিট হাউসে হামলা চালিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার খবর প্রচার করা হয়।

 

এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের নাম উঠে আসে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেন প্রথমে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে রাষ্ট্রপতি নিহত হওয়ার খবর দেন। তিনি হলেন, ‘The President has been killed.’

 

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মঞ্জুর নিহত হন। অন্যদিকে, ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ সে সময় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। দীর্ঘদিন ধরেই তারা পলাতক ছিলেন।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

 

অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গত জুলাইয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন মোড় এসেছে। একই সঙ্গে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ